Thursday, January 11, 2018

পরিসংখ্যান পড়ে কী হবে?

লিখেছেনঃ তোফায়েল আজম

পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তির পর প্রোবাবিলিটির প্রথম ক্লাস। শিক্ষক জাফর আহমেদ খান।

ক্লাসে এসে একটা গল্প বললেন। তখন স্যার শহিদুল্লাহ হলের এক্সটেনশন দুই-এ থাকেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলে। একটা সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দিল। স্যার এবং উনার এক বন্ধু পড়লেন বিপদে। এই রাতে কোথায় গিয়ে উঠবেন বুঝতে পারছেন না। বরিশালের লঞ্চে উঠে বাড়ী চলে যাবেন সেই সুযোগটাও দুর্বল। কোন উপায় না পেয়ে কাছেই কাকরাইল মসজিদে গিয়ে উঠলেন। রাতটা অন্তত নিরাপদে কাটানো যাবে।

উনাদের ব্যাগপত্র আর কাপড়চোপড় দেখে সহজেই অনুমান করা যায় এরা আর যাই হোক তাবলীগের লোক না।

কিন্তু আল্লাহর ঘর। রাতে এক মুরুব্বি উনাদের খাবারের ব্যবস্থা করলেন। স্যার ও তাঁর বন্ধুর কাছে পুরো গল্পটা শুনলেন। শুনে মুরুব্বি হেসে বললেন- বাবারা, চিন্তা করো না। আল্লাহ যাদের খুব ভালবাসেন তাদেরকে নানান উসিলায় ধরে ধরে এখানে নিয়ে আসেন।

স্যারের সেই রাতের গল্প ওখানেই শেষ। গল্প শেষে ক্লাসে হাসতে হাসতে বললেন- তোমরা পরিসংখ্যান বিভাগে এসে মন খারাপ করো না। আল্লাহ যাদের পছন্দ করেন তাঁদেরকে নানান উসিলায় এখানে নিয়ে আসেন।

কথাটা বাকী কার জীবনে কিভাবে প্রভাব ফেলেছিল জানি না। তবে আমার ফেলেছিল। আমি সেদিন সত্যিই বিশ্বাস করেছি- আল্লাহ আমাকে পছন্দ করেন বলেই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছেন।

আমরা যারা পরিসংখ্যান বিভাগে আসি তাদের প্রায় সবাই পছন্দমত সাবজেক্ট পাই না বিধায় মন্দের ভাল হিসেবে পড়ালেখা চালিয়ে যাই। পড়তে এসে দেখি সিনয়র থেকে শুরু করে ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক পর্যন্ত সবাই ডি-মোটিভেট করার মহান দায়িত্ব নিয়ে আছেন। এক জাফর আহমেদ খান বা ওয়াসিমুল বারী স্যাররা সবাইকে যা না মোটিভেট করেন তার চেয়ে বেশি ভয় দেখান আমাদের সিনিয়র ভাই ব্রাদার আর শিক্ষকেরা।

আমি বিশ্বাস করি প্রতি বছর যে পরিমান মেধাবী ছেলে-মেয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে আসে, তাদের সঠিক দিক নির্দেশনা আর তথ্য দিতে পারলে বাংলাদেশে পরিসংখ্যানের চিত্রটা আকাশপাতাল পালটে যাবে। শুধু একটা ধাক্কা, একটা বিশ্বাস লাগবে। কাজটা করে যাবার মত মেধাবী ছাত্র পরিসংখ্যানের প্রতিব্যাচেই আছেন, গুনে শেষ করা যাবে না।

আল্লাহ ভরসা! আমি জানি হবেই। 

পুনশ্চঃ
গুগোলে একজন পরিসংখ্যানবিদের গড় বেতন ৯ লাখ সতের হাজার টাকা। না, বার্ষিক না। মাসিক। বার্ষিক বেতন ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। 
চাকরির জন্য মিনিমাম এমএস ডিগ্রি লাগবে। আর ডেটা অ্যানালিস্ট হিসেবে দুই বছরের অভিজ্ঞতা। 

সূত্র: ক্যারিয়ার ডট গুগোল ডট কম, ইনডিড ডট কম।

লেখকঃ টিচিং অ্যাসিস্টেন্ট ও পিএইচডি শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব কেন্টাকি। 

Stat Mania

লেখকের পরিচয়